Banner 728x90

দারিদ্র্য নয়, আল্লাহর ওয়াদায় বিশ্বাস: বিয়ে নিয়ে ইসলামি নির্দেশনা


দারিদ্র্য নয়, আল্লাহর ওয়াদায় বিশ্বাস: বিয়ে নিয়ে ইসলামি নির্দেশনা

বিয়ে আল্লাহপ্রদত্ত এক বিশেষ নেয়ামত, রাসুলুল্লাহ (স.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং মানবজীবনের শৃঙ্খলা, পবিত্রতা ও নৈতিকতার রক্ষাকবচ। সাধারণ অবস্থায় বিয়ে সুন্নতে মুয়াক্কাদা, কিন্তু যদি গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তখন বিয়ে করা জরুরি হয়ে যায়।

বিয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে নবীজি যা বলেছেন

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে নেয়। কারণ, বিবাহ চক্ষুকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ (বুখারি: ৫০৬৬; মুসলিম: ১৪০০)

এই হাদিসে নবীজির (স.) পরামর্শ হলো- যে ব্যক্তি বিয়ের আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য রাখে, তার উচিত দেরি না করে বিবাহ করা। এটি ঈমান ও চরিত্র রক্ষার অন্যতম কার্যকর উপায়।

দারিদ্র্যের কারণে বিয়ে বিলম্ব: ইসলাম যা বলে

অনেক সময় দারিদ্র্য বা সাময়িক অভাবের কারণে মানুষ বিয়ে করতে দেরি করে। এ অবস্থায় ইসলাম কী নির্দেশ দেয়? ফুকাহায়ে কেরাম (ইসলামি আইনবিদরা) বলেন, ‘যদি কেউ অভাবের কারণে বিয়ে না করে, তাতে গুনাহ হবে না যতক্ষণ না সে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকে।’ যদি তার চরিত্র হেফাজতের আত্মবিশ্বাস থাকে, তবে স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত বিয়েতে বিলম্ব করতে পারে। তবে তাকে উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, যেন শিগগিরই নবীজির গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত পালন করতে সক্ষম হয়। এ সময় নফল রোজার মাধ্যমে নিজের প্রবৃত্তিকে সংযত রাখাও উত্তম। কেননা নবীজি (স.) বলেছেন- ‘আর যার বিবাহের সামর্থ্য নেই, সে যেন সাওম পালন করে।’ (সহিহ বুখারি: ৫০৬৬)

কিন্তু যদি আশঙ্কা থাকে যে, বিয়ে না করলে গুনাহে লিপ্ত হতে পারে, তখন ‘দারিদ্র্য কোনো অজুহাত নয়’। কেননা, গুনাহ থেকে বাঁচাই মুমিনের প্রধান কর্তব্য। তাছাড়া আল্লাহ তাআলা কোরআনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, যারা চরিত্র রক্ষার উদ্দেশ্যে বিয়ে করবে, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন।

বিয়ের পর সচ্ছলতার প্রতিশ্রুতি কোরআনে

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ দাও এবং তোমাদের সৎকর্মশীল দাস-দাসীদেরও। তারা যদি অভাবগ্রস্ত হয়, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আন-নূর: ৩২)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় হজরত আবু বকর (রা.) তরুণদের উদ্দেশে বলতেন- ‘তোমরা বিয়ে করে আল্লাহর আদেশ পালন করো; তিনি তোমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন।’ (তাফসিরে ইবনে আবি হাতেম: ৮/২৫৮২)

সাহাবাগণ তরুণ-তরুণীদের বিয়েতে উৎসাহ দিতেন এবং বলতেন, বিয়ে হলো বরকতের ও প্রাচুর্যের দরজা। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বলতেন- ‘তোমরা বিয়ের মাধ্যমে প্রাচুর্যের অনুসন্ধান করো।’ (জামিউত তাবিল: ১৭/২৭৫)

বিবাহিতদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ সাহায্য

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা মহান আল্লাহর জন্য অপরিহার্য: আল্লাহর পথে জিহাদে অংশগ্রহণকারী, মুক্তিপণ আদায়ের প্রচেষ্টায় থাকা দাস, এবং পবিত্র জীবনের লক্ষ্যে বিবাহকারী।’ (তিরমিজি: ১৬৫৫)

এই হাদিসে বোঝা যায় যে ব্যক্তি পবিত্র জীবন যাপনের উদ্দেশ্যে বিয়ে করে, আল্লাহ তাঁর সাহায্য অনিবার্য করে দেন। তাই দারিদ্র্য বিয়ের পথে বাধা নয়; বরং এটি আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার অন্যতম কারণ।

বিয়েতে সহযোগিতার সামাজিক দায়িত্ব

যে তরুণ-তরুণীরা চরিত্র রক্ষার জন্য বিয়ে করতে চায়, তাদের পাশে থাকা অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের দায়িত্ব। তাদের সহায়তা করা, সহজ উপায়ে বিয়ের ব্যবস্থা করা এবং দোয়া করা—সবই ইসলামি সমাজব্যবস্থার অংশ। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর আমলে কেউ বিয়ে করলে তিনি দোয়া করতেন- بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ (উচ্চারণ: বারাকাল্লাহু লাকা, ওয়া বারাকা আলাইকা, ওয়া জমাআ বাইনাকুমা ফি খাইরিন) অর্থ: ‘আল্লাহ তাআলা তোমার জীবনে বরকত দিন, তোমাদের সম্পর্কেও বরকত দিন এবং কল্যাণের মধ্যে তোমাদের একত্রিত করুন।’ (তিরমিজি: ১০৯১)

বিয়ে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নৈতিক শুদ্ধতার প্রতীক। দারিদ্র্য কখনো বিয়ের বাধা হতে পারে না, যদি উদ্দেশ্য হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি ও চরিত্র রক্ষা। আল্লাহ তাআলা নিজেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি অভাবগ্রস্ত বিবাহকারীদের অভাব দূর করবেন। আমরা সবাই যেন নবীজির এই সুন্নত পালন করতে পারি, চরিত্র রক্ষার নিয়তে বিবাহে অগ্রসর হতে পারি এই দোয়া করি। আল্লাহ তাআলা সব মুসলিম তরুণ-তরুণীকে চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জনে বিবাহের তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

Banner 468x60

Banner 320x50

Banner 300x250

Banner 728x90

Popunder

Social Bar

Native Banner