কাঁচা মরিচ হঠাৎ এত ‘ঝাল’ ছড়াচ্ছে কেন
রাজশাহী
রাজশাহী নগরের অন্যতম বৃহৎ কাঁচাবাজার মাস্টারপাড়া মণিচত্বর। খুব ভোর থেকেই এখানে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সবজি আসে। ভোরে পাইকারি ও পরে খুচরা বিক্রি শুরু হয়। আজ শনিবার সকালে এই বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মরিচের দাম প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। মাত্র চার দিন আগেও এই মরিচের দাম ছিল প্রতি কেজি ১৫০ টাকা। বাজারে ৩০ টাকার মরিচ কিনছিলেন এক ক্রেতা। মরিচগুলো হাতে নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখানে হয়তো ৩০ টাকায় ৩০টি মরিচও নেই। হঠাৎ করে দাম অনেক বেড়ে গেছে।
মাস্টারপাড়া মণিচত্বর বাজারের ব্যবসায়ী আবদুস সোবহান বলেন, মরিচখেতে মরিচ নেই। বেশির ভাগ মরিচখেতে পানি জমে পচে গেছে। এ কারণে দাম বাড়তি।
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় অতিবৃষ্টিতে প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া একটি মরিচখেতযশোর
যশোরের কেশবপুরে কাঁচা মরিচ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অতিবৃষ্টিতে মরিচ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং ভারত থেকে মরিচ আমদানি না হওয়া দাম বাড়ার কারণ বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ কেশবপুর উপজেলা সদরে হাটের দিনে কাঁচা মরিচ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাঁদপুর
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় আজ সকালে বাজারে ৪০০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়। সকাল ১০টার দিকে উপজেলা সদরের কাঁচা তরকারির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মাত্র তিনজন বিক্রেতার কাছে সামান্য কিছু কাঁচা মরিচ ডালায় সাজানো। দাম চড়া হওয়ায় বেচাবিক্রি নেই তেমন। কয়েকজন ক্রেতাকে দরদাম করেই ফিরে যেতে দেখা গেছে। তবে দু-একজন ক্রেতা চড়া মূল্যেই অল্প পরিমাণে কিনছেন কাঁচা মরিচ।
কাঁচা মরিচের দাম হাঁকানো হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা। এক সবজি বিক্রেতা অল্প কিছু কাঁচা মরিচ নিয়ে বসে আছেন ক্রেতার আশায়। আজ শনিবার সকালে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদর বাজারে
উপজেলা সদর বাজারের কাঁচা তরকারি বিক্রেতা আলমগীর হোসেন ও মো. আল-আমিন বলেন, দুদিন ধরে বাজারে কাঁচা মরিচ তেমন আসছে না। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে অনেক। এ জন্য বেচাবিক্রিও নেই তেমন। ক্রেতারা কাঁচা মরিচের দাম শুনেই ভ্রু কুঁচকে চলে যান
কুষ্টিয়া
তিন দিন আগে গত বুধবার কুষ্টিয়া পৌরবাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা দরে। আজ সকালে একই মরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১০০ টাকা।
আজ বিকেলে পৌর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ইনসান আলী প্রথম আলোকে বলেন, মরিচের আমদানি কম। আজ মাত্র ৬ কেজি কিনেছেন। প্রতি কেজি কিনেছেন ২৮০ টাকা দরে। বিক্রি করছেন ৩২০ টাকা দরে। কত দিন এই দাম থাকবে তা বলতে পারেন না।
মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, গ্রামের মাঠে প্রচণ্ড রোদে মরিচখেতে গাছ পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার ভ্যাপসা গরমের পর বৃষ্টি হচ্ছে। এবার বৃষ্টির পরিমাণও বেশি। এতেও গাছ মরে যাচ্ছে। কাঁচা মরিচ কম উৎপাদন হচ্ছে। এটা আরও কয়েক দিন থাকতে পারে।



