অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে কারা, কীভাবে টিভি লাইসেন্স পেলো?
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে কারা, কীভাবে টিভি লাইসেন্স পেলো?নতুন দুটি টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স দিয়েছে সরকার যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, প্রতীকী ছবি
এবার যে দুজনের নামে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তাদের একজন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির নেতা, যিনি দলটিতে যোগ দেওয়ার আগে একটি পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন।
অন্যজন এনসিপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নেই, তবে এনসিপি গঠনের আগে এর উদ্যোক্তারা যে জাতীয় নাগরিক কমিটি করেছিলেন তাতে জড়িত ছিলেন তিনি। একটি পত্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার।
তারা দুজনই অবশ্য বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে, তারা আইন ও নিয়ম মেনেই লাইসেন্স পেয়েছেন এবং তাদের উদ্যোগের সঙ্গে বিনিয়োগকারী ও পেশাদার লোকজন সম্পৃক্ত আছেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছিল এবং বেসরকারি টেলিভিশনের লাইসেন্স পর্যালোচনার দায়িত্ব ওই কমিশনই পালন করবে বলে মতামত দিয়েছিলো।
কিন্তু তা না করে সরকার বিগত সরকারের মতো করেই নিজেদের ঘনিষ্ঠদের টিভি লাইসেন্স দিয়েছে বলে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ এ বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তারা এ বিষয়ে (লাইসেন্স দেওয়া) সেরা চর্চা কেমন হতে পারে তারই সুপারিশ করেছিলেন।
দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বিবেচনায় নিয়ে টেলিভিশন লাইসেন্স বা অনুমোদনের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালা তৈরির সুযোগ সরকারের ছিল।
"কিন্তু সেটি না করে সরকার এই বার্তাই কি দিলো কি না যে আমরা কর্তৃত্ববাদের পতন চাই, কিন্তু কর্তৃত্ববাদী সংস্কৃতিই টিকিয়ে রাখতে চাই," বলেছেন তিনি।
সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অবশ্য রাজনৈতিক বিবেচনায় লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
একই সঙ্গে বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, "সরকার যেহেতু কোনো মিডিয়া বন্ধ করছে না, ফলে ফ্যাসিবাদবিরোধীদের মিডিয়া দিয়ে মন্ত্রণালয় চাচ্ছে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে।"
নতুন দুটি টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স দিয়েছে সরকার যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, প্রতীকী ছবি
এবার যে দুজনের নামে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তাদের একজন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির নেতা, যিনি দলটিতে যোগ দেওয়ার আগে একটি পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন।
অন্যজন এনসিপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নেই, তবে এনসিপি গঠনের আগে এর উদ্যোক্তারা যে জাতীয় নাগরিক কমিটি করেছিলেন তাতে জড়িত ছিলেন তিনি। একটি পত্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার।
তারা দুজনই অবশ্য বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে, তারা আইন ও নিয়ম মেনেই লাইসেন্স পেয়েছেন এবং তাদের উদ্যোগের সঙ্গে বিনিয়োগকারী ও পেশাদার লোকজন সম্পৃক্ত আছেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছিল এবং বেসরকারি টেলিভিশনের লাইসেন্স পর্যালোচনার দায়িত্ব ওই কমিশনই পালন করবে বলে মতামত দিয়েছিলো।
কিন্তু তা না করে সরকার বিগত সরকারের মতো করেই নিজেদের ঘনিষ্ঠদের টিভি লাইসেন্স দিয়েছে বলে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ এ বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তারা এ বিষয়ে (লাইসেন্স দেওয়া) সেরা চর্চা কেমন হতে পারে তারই সুপারিশ করেছিলেন।
দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বিবেচনায় নিয়ে টেলিভিশন লাইসেন্স বা অনুমোদনের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালা তৈরির সুযোগ সরকারের ছিল।
"কিন্তু সেটি না করে সরকার এই বার্তাই কি দিলো কি না যে আমরা কর্তৃত্ববাদের পতন চাই, কিন্তু কর্তৃত্ববাদী সংস্কৃতিই টিকিয়ে রাখতে চাই," বলেছেন তিনি।
সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অবশ্য রাজনৈতিক বিবেচনায় লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
একই সঙ্গে বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, "সরকার যেহেতু কোনো মিডিয়া বন্ধ করছে না, ফলে ফ্যাসিবাদবিরোধীদের মিডিয়া দিয়ে মন্ত্রণালয় চাচ্ছে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে।"
এবার কারা লাইসেন্স পেলেন
এবার টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্সের খবর গণমাধ্যমে আসার পরেই আলোচনা হচ্ছে, যাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তাদের কোন বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে এবং চ্যানেল পরিচালনার মতো বিশাল আর্থিক সক্ষমতা তাদের আছে কি-না।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে লাইসেন্স পেয়ে আলোচনায় আসা এনসিপির নেতা আরিফুর রহমান তুহিন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, দলটি গঠিত হওয়ার আগেই '৩৬ মিডিয়া লিমিটেড' নামক কোম্পানির পক্ষে তিনি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিলেন।
তিনি বলেছেন, লাইসেন্স কখনো ব্যক্তির হয় না, কোম্পানির পক্ষ থেকে একজন আবেদন করে এবং তার নামে হয়।
"আমরা জানুয়ারিতে কোম্পানি খুলেছি। এখানে অর্থলগ্নীকারী ব্যক্তিরাও আছেন। বোর্ড মনে করেছে পরিবর্তনের একটা সময় এসেছে। বোর্ড বললো- আপনি যেহেতু ১০ বছর ধরে সাংবাদিক, আপনি কোম্পানির পক্ষে আবেদন করেন। আমাকে সাংবাদিক হিসেবেই আবেদনের জন্য মনোনীত করেছেন তারা," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।
তাদের প্রস্তাবিত 'নেক্সট টেলিভিশনকে' লাইসেন্সের পাশাপাশি তরঙ্গ বরাদ্দ ও যন্ত্রপাতি আমদানির অনাপত্তিপত্রও দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।
'লাইভ টিভি' নামে আরেকটি টিভির লাইসেন্স পাওয়া আরিফুর রহমান বলছেন, তারা দেশের বিদ্যমান আইন ও নিয়ম মেনেই আবেদন করেছেন।
"আমাদের কোম্পানিতে বিভিন্ন পেশার লোক আছে। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কিছু আমরা করিনি। আমি উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বিনিয়োগকারী, মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন পেশার অভিজ্ঞদের একত্র করে কোম্পানি গঠন ও আবেদনের বিষয়ে আমি সমন্বয়ের কাজ করেছি," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।
জানা গেছে, গত জুন মাসে আবেদন করে গত মাসের শেষ দিকেই লাইসেন্সের অনুমোদন পেয়েছে মি. রহমানের এই কোম্পানিটি।
তবে দুটি কোম্পানিতেই বিনিয়োগকারী হিসেবে বিএনপির সাথে জড়িত কয়েকজন আছেন বলে ধারণা পাওয়া গেছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, এবার এটা প্রত্যাশিত ছিল যে গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পরিবর্তন আসবে এবং দেশে প্রভাবমুক্ত সাংবাদিকতার জন্য যেটি জরুরি ছিল।

